জাতীয়করণের দাবিতে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী শিক্ষকদের আমরণ অনশন অব্যাহত, ‘দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়ব না’
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১২-০৬-২০২৬ ০৮:৪০:২৫ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় :
১২-০৬-২০২৬ ০৮:৪০:২৫ পূর্বাহ্ন
জাতীয়করণের
বিশেষ প্রতিনিধি:
মোঃ নুরুল ইসলাম খোকন
১২ জুন, ২০২৬
শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক ঘোষিত জাতীয়করণের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দাবিতে রাজধানী ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা জাতীয় শিক্ষক ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষকদের আমরণ অনশন কর্মসূচি আজ ষষ্ঠ দিনে গড়িয়েছে। গত ৭ জুন, ২০২৬ ইংরেজি তারিখ সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শত শত শিক্ষক অংশগ্রহণ করেছেন। তীব্র গরম ও নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে খোলা আকাশের নিচে অনশন পালন করছেন তারা।
আন্দোলনকারী শিক্ষক নেতাদের সূত্রমতে, গত ২৮শে জানুয়ারী, ২০২৫ তারিখে সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা জাতীয়করণের ঘোষণা দেয়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সেই ঘোষণার পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তা এখনো দৃশ্যমান বা বাস্তবায়ন করা হয়নি। ফলশ্রুতিতে, প্রান্তিক পর্যায়ের এই শিক্ষকরা চরম অর্থনৈতিক বৈষম্য ও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন।
অনশনস্থলে উপস্থিত হয়ে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ শিক্ষকদের এই ন্যায়সংগত দাবির প্রতি দৃঢ় সংহতি প্রকাশ করেন। কর্মসূচিতে চলমান আন্দোলনের রূপরেখা ব্যক্ত করতে গিয়ে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা জাতীয় শিক্ষক ঐক্যফ্রন্টের সভাপতি শামসুল হক আনসারী এবং মহাসচিব রেজাউল হক যৌথভাবে বলেন:
"বিগত ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে সরকারের পক্ষ থেকে যে জাতীয়করণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, তা আমাদের অধিকার। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় সেই নির্দেশ আজও আলোর মুখ দেখেনি। আমাদের এই আমরণ অনশন কর্মসূচি দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথেই চলতে থাকবে। প্রয়োজনে আমরা জীবন দেব, তবু দাবি আদায় না করে ঘরে ফিরব না।"
সরেজমিনে দেখা গেছে, টানা কয়েকদিন অনশনে থাকায় অনেক শিক্ষকই শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। অনেককে স্যালাইন দিয়ে রাখা হয়েছে এবং কয়েকজন গুরুতর অসুস্থ শিক্ষককে নিকটস্থ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে শরীর ভেঙে পড়লেও শিক্ষকদের মনোবল ভাঙেনি। ‘দাবি মোদের একটাই, ইবতেদায়ী জাতীয়করণ চাই’—এমন নানা স্লোগানে মুখরিত হয়ে আছে প্রেসক্লাব এলাকা।
শিক্ষাসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সমমান হওয়া সত্ত্বেও ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে চরম বৈষম্যের শিকার। সরকারের সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার ধীরগতি এই মানবিক সংকটের সৃষ্টি করেছে।
অনশনরত শিক্ষকদের জীবন রক্ষা এবং দেশের প্রাথমিক স্তরের ধর্মীয় শিক্ষার ধারাকে সচল রাখতে সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত ইবতেদায়ী শিক্ষকদের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনায় বসবেন এবং যৌক্তিক ও সম্মানজনক সমাধান নিশ্চিত করবেন—এমনটাই এখন সাধারণ শিক্ষক ও সচেতন নাগরিক সমাজের প্রত্যাশা।
নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload
কমেন্ট বক্স